দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

২০২৭ সালের হজযাত্রীদের জন্য নতুন স্বাস্থ্যবিধি চালু করেছে সৌদি আরব। হজে যেতে হলে এবার চিকিৎসা পরীক্ষা সম্পন্ন করে স্বাস্থ্যগত সক্ষমতার সনদ নিতে হবে। হজের ভিসা পাওয়ার আগে নুসুক মাসার ব্যবস্থার মাধ্যমে এই স্বাস্থ্য সনদ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। গুরুতর কিছু শারীরিক সমস্যা থাকলে হজ পালনের অনুমতি দেওয়া হবে না।
হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের এ সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য হলো প্রচণ্ড গরম, শারীরিক পরিশ্রম ও বিপুল জনসমাগমের মধ্যে হজের আনুষ্ঠানিকতা পালনের জন্য যাত্রীদের শারীরিক সক্ষমতা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে হজ চলাকালে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
হজযাত্রীদের প্রথমে চিকিৎসা সক্ষমতা পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে। কোনো কোনো দেশে এই পরীক্ষা দুই ধাপে হতে পারে। পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে, সংশ্লিষ্ট যাত্রীর এমন কোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যা নেই, যার কারণে তিনি হজ পালনের জন্য অযোগ্য বিবেচিত হতে পারেন।
চিকিৎসা পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে স্বাস্থ্যগত ছাড়পত্র দেওয়া হবে। নুসুক মাসারের মাধ্যমে প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া এই সনদ হজের ভিসা পাওয়ার পূর্বশর্ত। সৌদি আরবের প্রবেশপথেও সনদটি পরীক্ষা করা হতে পারে।
তবে স্বাস্থ্যগত ছাড়পত্রের পাশাপাশি টিকাদানের শর্তও বহাল থাকবে। বিশেষ করে মেনিনজোকক্কাল এসিডব্লিউওয়াই টিকাসহ নির্ধারিত অন্যান্য টিকা নিতে হবে। স্বাস্থ্যগত ছাড়পত্রের প্রক্রিয়া টিকাদানের শর্তের বিকল্প নয়। সৌদি আরবের সরকারি স্বাস্থ্য নির্দেশনায় হজযাত্রীদের জন্য নির্ধারিত টিকার বিষয়টিও উল্লেখ রয়েছে।
যেসব স্বাস্থ্যগত সমস্যার ক্ষেত্রে হজ পালনের অনুমতি দেওয়া হবে না, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ডায়ালাইসিসনির্ভর কিডনি বিকলতা, সামান্য পরিশ্রমেই উপসর্গ দেখা দেওয়া হৃদ্যন্ত্রের অকার্যকারিতা এবং অক্সিজেন প্রয়োজন হয় এমন দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসের রোগ।
এ ছাড়া চিন্তাশক্তি বা চলাফেরায় গুরুতর সমস্যা তৈরি করা স্নায়বিক বা মানসিক রোগ, স্মৃতিভ্রংশে আক্রান্ত অতিবৃদ্ধ বয়স, ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থা বা গর্ভাবস্থার শেষ তিন মাসের গর্ভাবস্থাও অযোগ্যতার তালিকায় রয়েছে।
কেমোথেরাপি বা নিবিড় রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দমনকারী চিকিৎসা চলমান থাকা সক্রিয় ক্যানসার এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ সক্রিয় সংক্রামক রোগ, যেমন ফুসফুসের খোলা যক্ষ্মা থাকলেও হজ পালনের অনুমতি দেওয়া হবে না।
হজযাত্রীদের সাধারণত নিজ দায়িত্বে হজের আনুষ্ঠানিকতা পালনের মতো শারীরিক সক্ষমতা থাকতে হবে। হালকা সহায়তার জন্য লাঠি ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে পুরোপুরি হুইলচেয়ার বা স্কুটারের ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের সাধারণত হজ পালনের অনুমতি দেওয়া হবে না।
তবে কোন দেশে কীভাবে চিকিৎসা পরীক্ষা হবে, এর বিস্তারিত নিয়ম ও সময়সীমা সংশ্লিষ্ট দেশের হজ কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করবে। তাই হজযাত্রীদের নিজ নিজ দেশের হজ কমিটির নির্দেশনা এবং নুসুক মাসারের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। ২০২৭ সালের হজের প্রস্তুতিতে সৌদি কর্তৃপক্ষ নুসুক মাসারের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রক্রিয়া ডিজিটালভাবে সম্পন্ন করছে।
/অ